
লিভার সিরোসিস রোগীর দাঁতের মাড়ি, নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণ-
লিভার সিরোসিস হলো সাধারণত অপরিবর্তনীয় প্রদাহ জনিত সমস্যা যেখানে লিভারের কোষমালা নষ্ট হয়ে ফাইব্রোসিস হয়ে অসংখ্য রিজেনারেটিভ নডিউল বা গুটি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে সেই গুটিগুলো হতে লিভার সিরোসিস হয়ে লিভারের মসৃণ আকার আকৃতি নষ্ট হয়ে এবড়ো খেবড়ো কদাকার আকার আকৃতি ধারণ করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতার মারাত্মক হ্রাস ঘটে… ফলশ্রুতিতে দেহের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক ও বহুমাত্রিক জটিলতা দেখা দেয়।
তেমনই একটি জটিলতা হলো শরীরের বিভিন্ন অংশ হতে অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত… যেমন দাঁতের মাড়ি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া। এর কারণও বহুবিধ এবং জটিল জৈবনিক প্রক্রিয়া –
১) সিরোটিক কোয়াগুলোপ্যাথি;
২) পোর্টাল হাইপারটেনশন-সম্পর্কিত রক্তপাত (পোর্টাল শিরায় উচ্চ রক্তচাপের ফলে সৃষ্ট) ;
৩) মিউকাস আবরণী কিংবা ক্ষতস্থান হতে রক্তপাত (স্বাভাবিক ভাবে রক্ত জমাট বাঁধার অক্ষমতার ফলে সৃষ্ট) ;
৪) স্থিতিশীল লিভার সিরোসিস (Compensated liver cirrhosis) যখন অস্থিতিশীল লিভার সিরোসিস (Decompensated liver cirrhosis) হয়ে যায় তখন রক্তপাতের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়… আর এর সাথে যদি আরও কিছু নিয়ামক যুক্ত হয় তাহলে বিষয়টি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, যেমন – কিডনি ফেইলিউর, ইনফেকশন, পোর্টাল হাইপারটেনশন, ডিহাইড্রেশন এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি ;
৫) Thrombocytopenia বা Platelet count বা অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া – সিরোসিস রোগীতে বহুবিধ কারণে এমনতরো অবস্থা তৈরি হতে পারে – পোর্টাল হাইপারটেনশনের ফলে প্লীহার কার্যক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায়, অস্থিমজ্জা থেকে অণুচক্রিকার উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়া ;
৬) প্রোটিন সি, প্রোটিন এস ফ্যাক্টর, প্লাজমিনোজেন এবং অ্যান্টিথ্রম্বিন কমে যাওয়া; ফ্যাক্টর ৮ ও ভনউইলেব্র্যান্ড ফ্যাক্টর বেড়ে যাওয়া ;
৭) হাইপারফিব্রিনোলাইসিস বা AICF (Accelerated intravascular coagulation and fibrinolysis) হওয়ার কারণে ;
৮) Prothrombin time বেড়ে যাওয়ায়।
ডাঃ এম সাঈদুল হক
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার।
০১৭০৩-৭৩৮৬০১, ০১৭১০-০৩২১৫৮
০১৯২৭-০৬৮১৩৬, ০১৮৬৫-৫০৪০২৬

