লাল মাংস বা রেড মিট (Red meat)

Share This Post

লাল মাংস বা রেড মিট কি?

রেড মিট হলো মূলত উচ্চ মানসম্মত আমিষ বা প্রোটিন।
সাধারণত চতুষ্পদ প্রাণীর মাংসকেই রেড মিট বলা হয়ে থাকে, যেমন – গরু, ছাগল, ভেড়া।
ব্যতিক্রম – অস্ট্রিচ, ইমু পাখির মাংস (দ্বিপদ প্রাণী)

আমরা দুই ভাবে রেড মিট খেয়ে থাকি –
১) ফ্রেশ রেড মিট
২) প্রসেসড রেড মিট (সসেজ, সালামি, বেকন)

এধরণের মাংসকে লাল মাংস বা রেড মিট বলা হয়, কারণ –
★ এতে বেশি পরিমাণে হিম আয়রন থাকে,
★ এতে উচ্চ মাত্রায় মায়োগ্লোবিন থাকে,
★ স্লোয়ার টুইচ ধরনের মাসল ফাইবার থাকে।

লাল মাংস বা রেড মিট অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্ষতির কারণ হতে পারে, কেননা এতে –
১) বেশি পরিমাণে হিম আয়রন থাকে,
২) বেশি পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে,
৩) উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে,
৪) হাই ক্রিয়েটিন থাকে,
(এসব উপাদানের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে)
৫) প্রসেসড রেড মিটে নাইট্রোসায়ামিন থাকে যা হতে পাকস্থলী কিংবা কোলন ক্যান্সারের আবির্ভাব ঘটতে পারে।

কি পরিমাণে রেড মিট কোন ক্ষতিকর ঝুঁকি ছাড়াই খাওয়া যেতে পারে –

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সপ্তাহে ৩৫০-৪৫০ গ্রাম রেড মিট তিনটি দিনে ভাগ করে খাওয়া যেতে পারে।
এখানে ৩০০-৪৫০ গ্রাম রান্না করা রেড মিট এর ওজন বুঝানো হয়েছে, যা ৭৫০ গ্রাম কাঁচা মাংসের সমপরিমাণ গরুর মাংসের কাটার প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অংশের মাংসে প্রোটিন, ফ্যাট এর পরিমাণ নির্ভর করে, যেমন –
Chuck – 78-84% lean meat
Round – 85-89% lean meat
Sirloin – 90-95% lean meat

নিউট্রিশনাল ফ্যাক্ট :
100 gram Round meat এ
প্রোটিন – ২৬ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট – ০ গ্রাম
ফ্যাট –
স্যাচুরেটেড ফ্যাট – ৬ গ্রাম
মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট – ৭ গ্রাম
(এই পরিমাণ ফ্যাট ক্ষতিকর LDL বাড়ায় না)
ক্রিয়েটিন – ৫ গ্রাম
কোলেস্টেরল – ৯০ মিগ্রা

ডাঃ এম সাঈদুল হক
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার।
০১৭০৩-৭২৮৬০১, ০১৭১০-০৩২১৫৮
০১৯২৭-০৬৮১৩৬, ০১৮৬৫-৫০৪০২৬

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

আলসারেটিভ কোলাইটিস, কোলোরেকটাল ক্যান্সার, কোলোরেকটাল ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার
লিভার

আলসারেটিভ কোলাইটিস থেকে মরণব্যাধি কোলন ক্যান্সার

আলসারেটিভ কোলাইটিস থেকে হতে পারে মরণব্যাধি কোলন ক্যান্সার আলসারেটিভ কোলাইটিস যথাযথভাবে চিকিৎসা করা না হলে কোলোরেকটাল ক্যান্সার হয়ে প্রতি ৬ জনের একজন মৃত্যুবরণ করতে পারে।

হায়াটাস হার্নিয়া কি কঠিন কোন রোগ?
অন্যান্য

হায়াটাস হার্নিয়া কি কঠিন কোন রোগ?

হায়াটাস হার্নিয়া হলো যখন ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা’র মাংসপেশীর দুর্বলতার কারণে পাকস্থলীর অংশবিশেষ বুকের দিকে উঠে আসে। ফলশ্রুতিতে এসিড রিফ্লাক্স হয়ে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়।