লিভার বায়োপসি

Share This Post

লিভার বায়োপসি :

লিভার বায়োপসি হলো বড় আকারের সু্ঁচ দিয়ে লিভার ফুটো করে টিস্যু নিয়ে এসে হিস্টোপ্যাথলজির মাধ্যমে সঠিক রোগ নিরূপণ করা।

সাধারণত লিভার বায়োপসিতে ২০ মি.মি. লম্বা এবং ১.৪ মি.মি. চওড়া লিভার টিস্যু বের করে নিয়ে আসা হয়।

দুই ধরনের বায়োপসি নিডল দিয়ে এই পরীক্ষাটি করা হয় —
১) মেনগিনি নিডল
২) ট্রুকাট বায়োপসি নিডল

যথেষ্ট পরিমাণ ১-২% লিগনোকেইন দ্রবণ দিয়ে বায়োপসি করার স্থানটি সাময়িক ভাবে অবশ করে নেয়া হয়।

পরীক্ষাটি করার পূর্বে রোগীর লিখিত সম্মতিপত্র নেওয়া হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অন্তত ১ব্যাগ রক্ত সংগ্রহে রেখে লিভার বায়োপসি করা হয়।

বিশ্বে সর্ব প্রথম লিভার বায়োপসি করেন পল এরলিক (১৮৮৩ সালে)।

লিভার বায়োপসির সুবিধা :

১) ওষুধ-সম্পর্কিত লিভারের প্রদাহ নির্ণয় করা

২) ক্রনিক হেপাটাইটিস

৩) লিভার সিরোসিস

৪) মদ্যপান জনিত লিভার রোগ

৫) ইন্ট্রাহেপাটিক কোলেস্ট্যাসিস

৬) লিভারের বিভিন্ন রকম সংক্রমণ

৭) স্টোরেজ ডিজিজ
(লিভারে লিপিড, গ্লাইকোজেন জমা হয়ে যে রোগ তৈরি করে)

৮) লিভার প্রতিস্থাপনের পর

৯) কিডনি প্রতিস্থাপনের জটিলতায়

১০) লিভারের ভিতরে স্থান দখলকারী অবস্থা (লিভারের ক্যানসার, কিংবা অন্য অঙ্গ হতে ক্যানসার মেটাস্টাসিস হয়ে লিভারে অবস্থান নেওয়া)

১১) ব্যাখ্যাতীত ভাবে লিভারের আকার বৃদ্ধি পাওয়া

১২) ব্যাখ্যাতীত ভাবে লিভার এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া [ যেমন SGPT, SGOT, GGT, Alkaline Phosphatase ইত্যাদি ]

১৩) ফ্যাটি লিভার নির্ণয় এবং সেটা থেকে স্টিয়াটোহেপাটাইটিস কিংবা লিভার সিরোসিস হয়েছে কি না তা সুচারুরূপে নিরূপণ করা যায়।

লিভার বায়োপসি করা হয় মূলতঃ
১) কোন ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করতে কিংবা বাতিল করতে,
২) কোন রোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে,
৩) কোন রোগের চরম অবস্থা নিরূপণ করতে,
৪) কোন রোগের অগ্রসরমানতা এবং জটিলতা নির্ণয় করতে,
৫) কোন চিকিৎসার ফলাফল নিরূপণে,
৬) কোন চিকিৎসার জটিলতা নির্ণয় করতে।

লিভার বায়োপসি করার ঝুঁকি এবং জটিলতাঃ

বড় ছোট মিলিয়ে জটিলতার মাত্রা ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং খুব বেশি খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ০.০৪ থেকে ০.১১ শতাংশ।

১) প্রাথমিক ভাবে বায়োপসিকৃত স্থানে প্রচন্ড ব্যথা, লো ব্লাড প্রেশার এবং হৃদকম্পন বেড়ে যেতে পারে,
২) প্লুরিসি এবং পেরিহেপাটাইটিস
ফুসফুসের আবরণীতে প্রদাহ এবং লিভারের চতুর্পাশে প্রদাহ দেখা দিতে পারে,
৩) লিভার বায়োপসিকৃত স্থান থেকে কিংবা লিভার থেকে রক্তপাত হতে পারে,
৪) লিভারের ভিতরে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত,
৫) হিমোবিলিয়া
লিভারের অভ্যন্তরে সূক্ষ্ম পিত্ত নালীতে রক্ত ঢুকে যাওয়া,
৬) আর্টারিও-ভেনাস ফিস্টুলা,
৭) বিলিয়ারি পেরিটোনাইটিস
পিত্ত উদর গহ্বরে প্রবেশ করে সেখানে প্রদাহ তৈরি করা,
৮) অসাবধানতার বশতঃ অন্য কোন অঙ্গ ফুটো হয়ে যাওয়া,
৯) ইনফেকশন,
১০) কারসিনয়েড ক্রাইসিস।

ট্রান্স জুগুলার লিভার বায়োপসিঃ

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এক ধরনের বিশেষ ট্রুকাট নিডল ক্যাথেটারে প্রবেশ করিয়ে ফ্লুরোস্কোপিক গাইডেন্সে জুগলার ভেইন হয়ে হেপাটিক ভেইন দিয়ে লিভারে যেয়ে লিভার টিস্যু সংগ্রহ করা হয়।

নিম্নোক্ত বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে বায়োপসি করা হয় —

১) রক্ত জমাট বাঁধতে অক্ষমতা [জন্মগত ত্রুটি কিংবা বর্তমান কোন রোগের কারণেও হতে পারে ]

২) লিভার প্রতিস্থাপনের পূর্বে একিউট লিভার ফেইলিউরে

৩) ম্যাসিভ অ্যাসাইটিস [পেটে ব্যাপক পরিমাণ পানির অবস্থান ]

৪) ক্ষুদ্রাকৃতির লিভার

৫) হেপাটিক ভেনাস প্রেশার গ্রাডিয়েন্ট নির্ণয় করতে

৬) অসহযোগিতা মনোভাবাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে

৭) ব্যাপক স্থূলকৃতি।

ডাঃ এম সাঈদুল হক
সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চীফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টার।
০১৭০৩-৭২৮৬০১, ০১৭১০-০৩২১৫৮
০১৯২৭-০৬৮১৩৬, ০১৮৬৫-৫০৪০২৬

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

আলসারেটিভ কোলাইটিস, কোলোরেকটাল ক্যান্সার, কোলোরেকটাল ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার
লিভার

আলসারেটিভ কোলাইটিস থেকে মরণব্যাধি কোলন ক্যান্সার

আলসারেটিভ কোলাইটিস থেকে হতে পারে মরণব্যাধি কোলন ক্যান্সার আলসারেটিভ কোলাইটিস যথাযথভাবে চিকিৎসা করা না হলে কোলোরেকটাল ক্যান্সার হয়ে প্রতি ৬ জনের একজন মৃত্যুবরণ করতে পারে।

হায়াটাস হার্নিয়া কি কঠিন কোন রোগ?
অন্যান্য

হায়াটাস হার্নিয়া কি কঠিন কোন রোগ?

হায়াটাস হার্নিয়া হলো যখন ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা’র মাংসপেশীর দুর্বলতার কারণে পাকস্থলীর অংশবিশেষ বুকের দিকে উঠে আসে। ফলশ্রুতিতে এসিড রিফ্লাক্স হয়ে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়।